E-mail: deshhitaishee@gmail.com  | 

Contact: +91 33 2264 8383

৬১ বর্ষ ১৬ সংখ্যা / ১ ডিসেম্বর, ২০২৩ / ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩০

“আকাশ খেয়ে, মাটি খেয়ে তার খিদে মেটেনি - এবার তোদের খাবে”

বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়


“ফুল্লরা। তুই বুকের জ্বালা বলবি কাকে? কে শুনতে চায় একটার পর একটা অসুখের গল্প, যখন রাত ফুরলে দিন আসে না - শুধু আকাল, শুধু শ্মশান - শ্মশান জুড়ে ভূতের নৃত্য। যাকে জানতি সূর্য্যি ঠাকুর সে এখন ডাকাতের রাজা। আকাশ খেয়ে, মাটি খেয়ে তার খিদে মেটেনি - এবার তোদের খাবে।” বছর চল্লিশের কিছু আগে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মাত্র কয়েকটা শব্দের ব্যবহারে যতটা সহজে বিষয়টা বুঝিয়েছিলেন, ততটা সহজে উপলব্ধির ঘুম ভাঙেনি, ভাঙে না। তাই, দেশে এখন ‘আকাল’, সু-কাল নাকি অমৃতকাল তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। সেটাই যদিও স্বাভাবিক। তবে, এই পরিস্থিতিতে যিনি যতই নাকাল হন না কেন, পাঁকাল মাছের মতো অবস্থান বদলে বদলে একটা স্থিতাবস্থায় আসার চেষ্টা অনেকেই চালিয়ে যান। আর কিছু মানুষ নিজের ঘরে চোর না ঢোকা পর্যন্ত ভাবের ঘরে চুরি করেই ধরি মাছ না ছুঁই পানি গোছের একটা অবস্থান নিয়ে ফেলেন। নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধানের দেশে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের গেঁথে রাখা মালা অটুট রাখার লড়াই বেশ জটিল সন্দেহ নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সূর্য্যি ঠাকুর ডাকাত হয়ে উঠেছেন নাকি মসিহা সে বিতর্কও তাই নানা ভাষা নানা মতের দেশে থাকাটাই স্বাভাবিক। এই দড়ি টানাটানির মধ্যে থেকেই উত্তর-সত্যের যুগে সত্যের কাছাকাছি পৌঁছাবার লড়াই।

কথা হচ্ছিল আকাশ-মাটি খেয়ে ফেলার পরে রাজা কবে আমাদের গিলে ফেলবে তা নিয়ে। আমরা একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আছি অথবা ভারত এক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গোছের কিছু আত্মসুখে ডুবিয়ে রাখা বাক্য ছাড়া বাকি কোথায় কী অবশিষ্টাংশ কতটুকু পড়ে আছে প্রশ্ন এখন তা নিয়েই। গণতন্ত্র কী, কেন, চারটে স্তম্ভ কী কী - প্রাথমিক ধারণা সকলেরই কমবেশি আছে। তাই সেসব ছেড়ে বরং একবার দেখে নেওয়া যাক ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় কী বলা আছে। প্রস্তাবনা বলছে - “আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র রূপে গড়িয়া তুলিতে, এবং উহার সকল নাগরিক যাহাতেঃ সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ন্যায়বিচার, চিন্তার, অভিব্যক্তির বিশ্বাসের, ধর্মের ও উপাসনার স্বাধীনতা, প্রতিষ্ঠা ও সুযোগের সমতা নিশ্চিতভাবে লাভ করেন, এবং তাঁহাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তি-মর্যাদা ও জাতীয় ঐক্য ও সংহতির আশ্বাসক ভ্রাতৃভাব বর্ধিত হয়” ইত্যাদি ইত্যাদি। এই কথাগুলো দেশের সব নাগরিকের জন্য, সব রাজনৈতিক দলের জন্য প্রযোজ্য। আরও স্পষ্ট করে বললে সব মানুষের জন্য, মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য। যদিও আদৌ তা হচ্ছে কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন। পাশাপাশি এটাও সত্যি, এসব নিয়ে বেশি প্রশ্ন তুললেই যে কেউ যখন তখন ‘দেশদ্রোহী’ তকমা সম্পন্ন হয়ে যেতে পারেন। দস্তুর তো এখন সেরকমই।

গণতন্ত্রের চারটে স্তম্ভ হিসেবে যেগুলোকে ধরা হয় তার মধ্যে আছে কার্যনির্বাহী বিভাগ, নির্বাচিত প্রতিনিধি বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং সংবাদমাধ্যম। সব খুঁটিগুলোই গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহ নেই। তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আর সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রটা বোধহয় সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অন্য দুটো ক্ষেত্রে সাধারণের চোখ এড়িয়ে আড়াল আবডাল থেকে অনেক কিছু করা গেলেও এই দুই ক্ষেত্রে সাধারণের চোখ এড়ানো সম্ভব নয়। বলা ভালো, এই দুই ক্ষেত্রে চক্ষুলজ্জার ধার না ধেরে বাটপাড়ি হয় হাটের মাঝেই। মহান গণতন্ত্রের পতাকা কাঁধে বয়ে নিয়ে চলা দেশবাসীর অসহায়ভাবে দেখা ছাড়া বিশেষ কিছুই করার থাকে না। দেশবাসী ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করলেও উলটো দিকে থাকা রাতারাতি ভিনগ্রহের জীব হয়ে ওঠা অধিকাংশের কাছেই ভোট মিটে যাবার পরেই গুরুত্বহীন বোঝায় পরিণত হন জনগণ। আর ইচ্ছে না থাকলেও মোদি মিডিয়া অথবা গোদি মিডিয়ার করা সরকারি গুণগানের খবর শুনতে ও দেখতে বাধ্য হন।

অবস্থাটা বোধহয় ঠিক এতটাও খারাপ ছিল না যতটা খারাপ হয়েছে বিগত ন-দশ বছরে। আমাদের রাজ্য, অন্য রাজ্য, দেশ - ব্যতিক্রম খুঁজে পাওয়া মুশকিলের কাজ। জনমতকেও যে এভাবে নীলামে তোলা যায় বা গোরু ছাগলের মতো সাংসদ বিধায়ক, জনপ্রতিনিধিরাও যে বিক্রি হতে পারেন বিজেপি বা তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে সেই ধারণাটাই অধিকাংশ মানুষের ছিলনা। ক্ষমতা দখল করা, ক্ষমতা দখলে রাখাই সেখানে শেষ কথা। কত টাকার বিনিময়ে এইসব দলবদল হয় তা কখনই সামনে আসে না। যদিও কানাঘুষোয় শোনা যায় কোনোটার পরিমাণই নাকি কোটির কম নয়। পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রের একটা একটা করে স্তম্ভকে ধরে নড়বড়ে করে দিলে মূল কাঠামোও ধসে যেতে বাধ্য। মূল লক্ষ্য, সেই কাঠামো ধসিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। যদিও তথ্য বলছে বিজেপি কখনও জাতীয় স্তরে ৩৭ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি।

কয়েকটা পরিসংখ্যান দিলে দখলদারির রাজনীতির বিষয়টা আরও স্পষ্ট হবে। সমীক্ষাটা বছর দুয়েক আগে করেছিল অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস বা এডিআর। ২০১৪ সালে দেশে ক্ষমতাসীন হয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। এরও আগে যে বিজেপি কোথাও নির্বাচিত সরকার ফেলেনি এমনটা নয়। তবে ২০১৬-র পর থেকে বিষয়টা লাগামছাড়া। গোদা হিসেবে দেশে বিধায়ক সাংসদ মিলিয়ে মোট সংখ্যাটা ৪,৯০০-র কিছু বেশি। ৪,১২৩ জন বিধায়ক, লোকসভার সাংসদ ৫৪৩ এবং রাজ্যসভার সাংসদ ২৪৫। এডিআর-এর পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৬ থেকে ২০২০-র মধ্যে মোট ৪৪৩ জন বিধায়ক ও সাংসদ দলবদল করেছেন। যার মধ্যে ৪০৫ জন বিধায়ক এবং বাকিরা সাংসদ। এই ৪০৫ জনের মধ্যে ১৭০ জন কংগ্রেস ছেড়েছেন। বিজেপি ছেড়েছেন ১৮ জন। তথ্য অনুসারে দলবদল করা ৪০৫ জন বিধায়কের মধ্যে ১৮২ জন যোগ দিয়েছেন বিজেপি-তে এবং ৩৮ জন যোগ দিয়েছেন কংগ্রেসে। তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন ১৬ জন।

সাংসদ বিধায়কদের দলবদলের পরিসংখ্যান অনুসারে এঁদের অধিকাংশেরই পছন্দ বিজেপি। দল ছাড়ার পর নতুন করে নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েছেন ৩৫৭ জন এবং এঁদের মধ্যে ১৭০ জন পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। যে তথ্য এই প্রসঙ্গে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, দলবদল করা ৪৪৩ জন সাংসদ বিধায়কের সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ ৩৯শতাংশ এবং এঁদের মধ্যে প্রায় সকলেই কোটিপতি। এই সময়ের মধ্যেই দল বদল করেছেন ১২ জন লোকসভা সাংসদ এবং ১৬ জন রাজ্যসভা সাংসদ। যে ১৬ জন রাজ্যসভা সাংসদ দল ছেড়েছেন তাদের মধ্যে ১০ জন যোগ দিয়েছেন বিজেপি-তে। উল্লেখযোগ্যভাবে এই পাঁচ বছরের মধ্যে কর্ণাটক, গোয়া, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর এবং মধ্যপ্রদেশে শুধুমাত্র বিধায়কদের দলবদলের জন্য নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। ২০১৯-এর বিধানসভা নির্বাচনে সিকিমে একটিও আসনে জয়ী হয়নি বিজেপি। যদিও রাতারাতি বিরোধী সিকিম ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের প্রধান পবন কুমার চামলিং ছাড়া বাকি ১২ জন বিধায়ক বিজেপি-তে যোগ দেন। এরপরেও হয়েছে মহারাষ্ট্রের নির্বাচিত সরকার ফেলে দেওয়া অথবা রাজস্থানে সরকার ফেলার চেষ্টা। দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছরের চেষ্টায় শিবসেনাকে দু’ভাগে ভাগ করে মহারাষ্ট্রে মহাবিকাশ আঘাদি সরকারের পতন ঘটিয়েছে বিজেপি। সরকার গঠনের পরেও দল ভাঙিয়েছে এনসিপি-র। যে অজিত পাওয়ারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব ছিল বিজেপি, দল ভেঙে বিজেপি সরকারে যোগ দেবার পরে তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ নেই। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে একদিকে প্রায় প্রতিদিন চার্টার্ড বিমানে করে দিল্লি নিয়ে গিয়ে দলবদল করিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে প্রায় প্রতিদিন যোগদান শিবির করেছে তৃণমূলও। দেশের রাজনীতিতে দলবদলে যা অবশ্যই এক নতুন নজির।

এবার আসা যেতে পারে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদমাধ্যমের কথায়। এনডিটিভি থেকে ইস্তফা দেওয়া সাংবাদিক বহুদিন আগে থেকেই মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার এক অংশের নাম দিয়েছেন গোদি মিডিয়া। একটু চোখ কান খোলা রেখে ইদানীং কালের খবর পরিবেশন না শুনলে ও না দেখলে এই বিশেষণ-এর তাৎপর্য বোঝা যাবে না। একদিকে বিভিন্ন রকম দমনমূলক আইন করে স্বাধীন বিকল্প সংবাদমাধ্যমের মুখবন্ধ করার চেষ্টা, আর অন্যদিকে বিভিন্নভাবে মেইনস্ট্রিম মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা - দুইই ঘটেছে এইসময়েই এবং প্রতিনিয়ত ঘটছে। নভেম্বর মাসের প্রথমদিকেই এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে বিকল্প ধারার সংবাদমাধ্যম নিউজক্লিক-এর সঙ্গে। যেখানে এই সংস্থার ৩৭ জন সন্দেহভাজন পুরুষকে সংস্থার দপ্তরে এবং ৭ জন সন্দেহভাজন মহিলাকে তাঁদের বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ডিজিটাল ডিভাইস, নথিপত্র ইত্যাদি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে পরীক্ষার জন্য। একই দিনে নিউজক্লিকের সম্পাদক, সাংবাদিক, কর্মী সহ তল্লাশি চলে বিভিন্ন জায়গায়। এমনকী সিপিআই(এম)'র সাধারণ সম্পাদকের সরকারি বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয় ওইদিনই। ৩ অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত ইউএপিএ-তে আটক নিউজক্লিকের সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থ এবং এইচ আর প্রধান অমিত চক্রবর্তী।

এই বছরের আগস্ট মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমসে ভারতীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম নিউজক্লিক সম্পর্কিত এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যে প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয় সংস্থার ফান্ডিং নিয়ে। টাইমস জানায়, বিদেশি কোনো এক ব্যক্তির মাধ্যমে ঘুরপথে এই সংস্থাকে টাকা দেওয়া হয়েছে চিনের পক্ষে প্রচারমূলক খবর প্রকাশের জন্য। এর পরেই সরাসরি নিউজক্লিক-এর গায়ে ‘দেশদ্রোহী’র তকমা লাগান শাসকদলের বেশ কিছু সাংসদ ও কিছু রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

সংবাদমাধ্যমের অবস্থা বর্তমানে ঠিক কোন জায়গায় তা বুঝতে গেলে দু-একটা ঘটনাই যথেষ্ট। যেমন ২০১১ সালে কাশ্মীরওয়ালা নামক অধুনালুপ্ত এক ম্যাগাজিনে ‘দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙবেই’ (The shackles of slavery will break) নামক একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। মতামতমূলক এই প্রবন্ধের জন্য ১১ বছর পর ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় নিবন্ধের লেখক এবং এক ডিজিটাল মিডিয়ার সম্পাদককে। গত ১৭ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সেই সম্পাদক ফাহাদ শাহ। ফ্রি স্পিচ কালেক্টিভ-এর তথ্য অনুসারে বিগত এক দশকে ভারতে বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন অথবা আইনি জটিলতায় পড়েছেন ১৫৪ জন সাংবাদিক। যারমধ্যে ২০২০ সালেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ৬৭ জন সাংবাদিকদের সঙ্গে। উল্লেখযোগ্যভাবে এই ১৫৪টি মামলার মধ্যে ৭৩টিই বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে। ২৯টি মামলা নিয়ে শীর্ষে যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ। তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সাল থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা অনেকটাই বেড়েছে। কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট-এর তথ্য অনুসারে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে জেলবন্দি ছিলেন ৭ জন সাংবাদিক। বর্তমানে এই তালিকায় থাকা ৩ জন জামিন পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে ৬ জনের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় অভিযোগ আছে।

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের আমলে দেশের গণতন্ত্রের বিপন্নতা বোঝাতে উদাহরণ হিসেবে আরও অনেক ঘটনার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। আনা যেতে পারে আরও বহু বিষয়। যেখানে বারবার ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে দেশের সংবিধানের বিভিন্ন বিধিকে। কার্যত অস্বীকার করা হচ্ছে সংসদের দুই কক্ষকে। বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে সংবাদমাধ্যমকে। তবুও নাকি এখন অমৃতকাল। দেশজুড়ে চলছে স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব। কবির ভাষায় - “গাঁয়ের মানুষ মাঠে যায় না, শুকনো কুয়ো জল দেয় না - সারা বছর হাতের মুঠোয় কান্না ছাড়া আর কিছু নেই;” আসলে - এই অমৃত মুহূর্তে আমরাও সুড়ঙ্গবন্দি... বেশ কয়েক বছর ধরে... হাতুড়ি, শাবল, গাঁইতি দু’দিন আগেই মুক্তির পথ বাতলে দিয়েছে... মুক্তি সে পথেই... তাই ভরসা থাকুক মানুষেই...